Yoga-যোগব্যায়াম

Yoga-যোগব্যায়াম

Yoga-যোগব্যায়াম

বিভিন্ন যোগ ব্যায়াম ও তাদের উপকারিতা কি কি ?

যোগ শব্দটি ভারতীয় সভ্যতায় বহু প্রাচীন । ব্যায়াম কথার অর্থ নিয়মিত অঙ্গ চালনা । একটি বিশেষ ভঙ্গিতে মনঃ সংযোগ করে কিছু সময়ের জন্য স্থির ভাবে অবস্থান করাকে বলে আসন বা যোগাসন । শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে নিয়মিত যোগ ব্যায়াম আভ্যাস করার প্রয়োজন । প্রাচীনকালে আশ্রমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের বেদ আভ্যাসের সাথে সাথে শরীর গঠনের জন্য যোগাসন অনুশীলন করতে হত । যোগাসন অনুশীলন করলে দেহ সুগঠিত হয়, শরীর ও মনের বিকাশের জন্য সহায়তা করে । নীচে আপনি অভ্যাস করতে পারেন এমন কয়েকটি যোগাসনের প্রনালি ও উপকারিতা দেওয়া হল । সব গুলোর প্রনালি ও উপকারিতা জানতে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন ।

১) পদ্মাসন – পদ্মাসন আভ্যাসের সময় পা দুটি এমন ভাবে একটির উপর অপরটি থাকে, যাতে পায়ের অবস্থান পদ্মের পাপড়ির মত দেখায় । বাম উরুর উপর ডান পা, ডান উরুর উপর বান পা রাখতে হবে । এই অবস্থায় দু হাঁটু মাটিতে ঠেকে থাকবে । মেরুদণ্ড সোজা রেখে বাম হা ত ডান উরুর উপর, ডান হাত বাম উরুর উপর রাখতে হবে । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে ।
উপকারিতা – ধ্যান ধারনা অভ্যাসের জন্য এই আসন গুরুত্বপূর্ণ । এই আসনে পায়ের বাত দূর হয় । মেরুদণ্ড সরল ও নমনীয় হয় । পায়ের পেশি সবল হয় । মানসিক একাগ্রতা ও ধৈর্য বৃদ্ধি পায় । পড়াশুনায় মনোযোগ বৃদ্ধি পায় ।
২) ভুজাঙ্গসন – এই আসন করার সময় কোমর থেকে দেহের উপরের অংশকে উপরে তুলতে হয় । এই আসন করার সময় শরীর ভুজঙ্গ বা সাপের ফনা তুললে যেমন হয় সেভাবে দেখায় । পা দুটি জোড়া ও সোজা রাখা অবস্থায় চিবুক মাটিতে রেখে উপুড় হয়ে শুতে হবে । দু হাতের তালু বুকের দুপাশে এমন ভাবে রাখতে হবে যেন আঙুল কাঁধের সমান ও কনুই কোমরের সঙ্গে লেগে থাকে । এবার হাতে ভর না দিয়ে কোমরের জোরে বুক ও নাভির উপর অংশ উপরে তোলার চেষ্টা করুন । এই অবস্থান ৪০-৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত করবেন । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে ।
উপকারিতা – এই আসনের দ্বারা কোমর, বুক, পীঠ, শিরদাঁড়া, পাকস্থলীর কাজ ভাল হয় । মেরুদণ্ডের বক্রতা দূর হয় । মেরুদণ্ডের সামনের অংশে স্নায়ুতন্ত্র গুলি সলরতর হয় ।
৩) শবাসন – এই আসন অভ্যাসের সময় শব বা মড়ার মত নিঃশব্দে শুয়ে থাকে, তাই একে শবাসন বলে । পা দুটি সোজা সরল রেখে দেহ শিথিল করে চিত হয়ে শুয়ে পড়তে হবে । পা দুটো যেন লম্বা লম্বি ভাবে শরীরের দুপাশে থাকে ।শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে । এমন ভাবে শুয়ে থাকতে হবে যেন আপনার মনে কোন চিন্তা ভাবনা নেই । অন্যান্য আসন করার শেষে শবাসন করা যায় । উপুড় হয়ে শবাসন করা ঠিক না ।
উপকারিতা – শবাসন করার ফলে শরীরের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায় । শরীরে নতুন কর্ম শক্তি আসে । মানসিক উত্তেজনা, চঞ্চলতা, অনিদ্রা, অবসাদ প্রভৃতি এই আসনের দ্বারা দূর হয় ।
৪) বজ্রাসন – পা দুটি পিছনের দিকে মুড়ে গোড়ালি দুটো কিছুটা ফাঁক রেখে তার উপর বসতে হবে । মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাত দুটি দুই উরুর উপর সোজা ভাবে রাখতে হবে । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে । প্রথম দিকে কিছুটা অসুবিধা হলেও অভ্যাস করতে পারলে পরে আর কোনো অসুবিধা হবে না ।
উপকারিতা – অম্বল, বদহজম, কোষ্টকাঠিন্য ইত্যাদি পেটের রোগ ভাল হয় । নিয়মিত আভ্যাস করলে সায়টিকা বাত, পায়ের বাত ইত্যাদি হয় না । পায়ের পেশি ও স্নায়ু সবল হয় ।
৫) ধনুরাসন – ধনুরাসন করার সময় অনেকটা ধনুকের মতো দেখতে লাগে । শরীর শিথিল করে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন ।পা দুটি হাঁটুর কাছ থেকে নিয়ে পিঠের দিকে এনে দু হাত দিয়ে গোড়ালি শক্ত করে ধরুন । পা ও হাঁটু জোড়া রাখার চেষ্টা করুন । এখন হাত দিয়ে গোড়ালি টেনে ধীরে ধীরে মাথা, বুক ও পা মাটি থেকে তুলুন । ঘাড় যতটা পারেন পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে ।
উপকারিতা – এই আসন অভ্যাসের ফলে লিভারের সমস্যা, কোষ্টকাঠিন্য, পেটে ও কোমরে চর্বি জমা হওয়া থেকে মুক্তি দেয় । মেরুদণ্ড নমনীয়, কুঁজো ভাব দূর হয় । বুকের বেষ্টনী বাড়াতে সাহায্য করে ।
৬) সূর্য নমস্কার – প্রাচীন কালে মুনি ঋষিরা যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করার আগে শরীরকে যোগ ব্যায়াম অভ্যাসের উপযোগী করে তোলার জন্য এই আসনটি করতেন । ভঙ্গি গুলি একটা ছন্দময়য় গতিতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত করতে হয় ।
উপকারিতা – অল্প সময়য়ের মধ্যে দেহের জড়তা কেটে যায় । দেহ যেকোনো কাজের উপযোগী হয়ে ওঠে । বুকের, কোমরের, পীঠের, হাতের, কাঁধের ও পায়ের পেশি সুগঠিত হয় । শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, শ্বাসযন্ত্র সবল হয় ।

৭) সহজ প্রানায়ন – আমাদের শ্বাসকার্যে প্রধান ভূমিকা নেয় ফুসফুস । ফুসফুসের ক্ষমতার অর্ধেকের কম অংশ ব্যবহার হয় । সহজ প্রানায়নের উদ্দেশ্য হল যে ফুসফুসের সম্পূর্ণ অংশকে ব্যবহার করে দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ানো । যে কোন আসনে বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে হবে । যখন আর শ্বাস নেওয়া যাচ্ছেনা তখন আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ছাড়তে হবে । যতটা সময় নিয়ে শ্বাস নেবেন তার থেকে বেশি সময় নিয়ে শ্বাস ছাড়তে হবে ।

উপকারিতা – ফুসফুসের জন্য খুব উপকারী । মানসিক একাগ্রতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে । দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে । সর্দি, কাশি হাঁপানি ভালো হয় । দেহের বাইরে দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায় ।

https://janaajana24.blogspot.com/2019/04/blog-post_25.html

 

যোগাসনের নিয়মকানুন | ১৬টি ইয়োগা টিপস জেনে থাকুন সুস্থ!

যোগাসন - shajgoj.com
 
 
সুস্থ থাকতে যোগাসনের নিয়মকানুন

০১. ৫/৬ বছর বয়স থেকে শুরু করে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করা যায়। শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি আসন বেছে নিতে হবে। সব বয়সে সব রকম আসন করা যায় না। অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদের কোন আসন দুইবারের বেশি করা ঠিক নয়। ছেলেদের ১৪/১৫ বছর বয়সের পূর্বে আর মেয়েদের ঋতু প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রাণায়াম ও মুদ্রা অভ্যাস করা উচিত নয়।

সুস্থ থাকতে প্রাণায়াম যোগাসন - shajgoj.com

০২. সকাল, সন্ধ্যা ও গোসলের পূর্বে বা রাতে যেকোনো সময় যোগ ব্যায়াম করা যায়। তবে সে সময় যেন ভরপেট না থাকে। অল্প কিছু খেয়ে আধ ঘন্টা পরে আসন করা যেতে পারে, কিন্তু প্রাণায়াম বা মুদ্রা খালি পেটে অভ্যাস করাই বাঞ্ছনীয়। প্রাতঃক্রিয়াদির পর আসন করা ভালো। তবে যাদের কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা প্রভৃতি রোগ আছে, তারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিছানায় কয়েকটি নির্দিষ্ট আসন ও মুদ্রা করতে পারে। যাদের অনিদ্রা রোগ আছে, রাতে খাবার পর শোবার পূর্বে কিছুক্ষণ বজ্রাসন করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া ভরপেট খাওয়ার পরও কিছুক্ষণ বজ্রাসনে বসলে খাদ্য হজম বা পরিপাকক্রিয়া সহজতর হতে পারে।

সুস্থ থাকতে বজ্রাসন - shajgoj.com

০৪. আসন, মুদ্রা বা প্রাণায়ামে একটি ভঙ্গিমায় বা প্রক্রিয়ায় একবারে যতটুকু সময় সহজভাবে করা যায় বা থাকা যায়, ঠিক ততটুকু সময় করা বা থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে কোন ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট আসন ছাড়া একবারে এক মিনিটের বেশি থাকা উচিত নয়। পদ্মাসন, ধ্যানাসন, সিদ্ধাসন ও বজ্রাসনে ইচ্ছেমতো সময় নেওয়া যেতে পারে।

সুস্থ থাকতে পদ্মাসন - shajgoj.com

০৫. একবারে ৭/৮ টির বেশি আসন অভ্যাস করা ঠিক নয়। আসনের সঙ্গে বয়স অনুযায়ী ও প্রয়োজন মত দু’একটি প্রাণায়াম, মুদ্রা অভ্যাস করলে অল্প সময়ে আরো ভালো ফল পাওয়া যায়। এক একটি আসন বা মুদ্রা অভ্যাসের পর প্রয়োজন মত শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। ৫ /৭ মিনিট খালি হাতে কিছু ব্যায়ামের পর আসন বা মুদ্রা করলে ফল খুব দ্রুত পাওয়া যায়। কিন্তু কোন শ্রমসাধ্য কাজ বা ব্যায়ামের পর বিশ্রাম না নিয়ে কোন প্রকার যোগ ব্যায়াম করা উচিত নয়। সপ্তাহে একদিন বিশ্রাম নেয়া উচিত।

সুস্থ থাকতে শবাসন - shajgoj.com

০৬. আসন অভ্যাসকালে জোর করে বা ঝাঁকুনি দিয়ে কোন ভঙ্গিমা বা প্রক্রিয়া করা ঠিক নয়। আসন অবস্থায় মুখে যেন কোন বিকৃতি না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

০৭. আসন অভ্যাসকালে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু মুদ্রা বা প্রাণায়ামে নিয়মানুযায়ী শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

০৮. কম্বল, প্যাড বা পাতলা তোষকের উপর আসন অভ্যাস করা বাঞ্ছনীয়। শক্ত মাটি বা পাকা মেঝেতে অভ্যাস করলে যেকোনো সময়ে দেহে চোট লাগতে পারে।

যোগাসনের নিয়মকানুন এর একটি আসনে বসতে ম্যাট ব্যবহার - shajgoj.com

০৯. আলো-বাতাসহীন বা বদ্ধ ঘরে যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করা ঠিক নয়। এমন জায়গায় অভ্যাস করার চেষ্টা করতে হবে, যেখানে বায়ুর সঙ্গে প্রচুর অক্সিজেন নেয়া যায়।

১০. ১২/১৩ বছরের উপর এবং ৪৫ /৪৬ বছরের নীচে (স্বাস্থ্যানুযায়ী বয়সসীমা কম-বেশি হতে পারে) মেয়েদের স্বাভাবিক কারণে মাসে ৪ /৫ দিন কোন আসন করা ঠিক নয়। তবে ধ্যানাসন, শবাসন প্রভৃতি অভ্যাস করা যায়।

১১. মেয়েদের ক্ষেত্রে সন্তানসম্ভবা হলে তিন মাস পর্যন্ত কিছু সহজ আসন বা প্রাণায়াম করা যেতে পারে, কিন্তু মুদ্রা অভ্যাস একেবারে করা উচিত নয়। সন্তান প্রসবের তিন মাস পর আবার ধীরে ধীরে সব আসনাদি অভ্যাস করা বাঞ্ছনীয়। গর্ভাবস্থায় সকাল ও সন্ধ্যায় খোলা জায়গায় পায়চারি করা বিশেষ উপকারী।

১২. আসনাদি অভ্যাসকালে এমন কোন পোশাক পরা উচিত নয় যাতে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।

১৩. যোগ-ব্যায়াম অভ্যাসকালে কথা বলা বা অন্যমনস্ক হওয়া ঠিক নয়। কারণ মনের সঙ্গে দেহের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ যোগ ব্যায়ামের মূলমন্ত্র। একাগ্রতাই অভীষ্ট ফল এনে দিতে পারে।

১৪. যোগ ব্যায়ামে তাড়াতাড়ি ফল পাবার আশা করা ঠিক নয়। এতে বিশ্বাস ও ধৈর্য্যের একান্ত প্রয়োজন। নিয়মিত ও নিয়মমতো যোগ-ব্যায়াম অভ্যাসে সুফল আসবেই।

১৫. যদি তামাকের অভ্যাস বা মাদসাক্তি থাকে, বর্জন করুন।

১৬. যতটা সম্ভব মন প্রফুল্ল রাখা বাঞ্ছনীয়। কুচিন্তা বা দুশ্চিন্তা যেন মনে না আসে।

এই তো জানা হয়ে গেলো যোগাসনের নিয়মকানুন । তাহলে এবার যোগব্যায়াম শুরু করে দিন যোগাসনের নিয়মকানুন জেনে আর নিজের উপর আস্থা রেখে এগিয়ে যান। সফলতা আপনার হাতের মুঠোয়।

ওজন কমাতে যোগব্যায়াম | ৪টি আসনে হবেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী!

যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা কি জানলে অবাক হবেন

যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা ‍শুনলে চমকে যাবেন। যোগব্যায়াম একটি আধ্যাত্মিক, মানসিক এবং শারীরিক অনুশীলন যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। সময়ের সাথে সাথে, লোকেরা যোগের সাথে যুক্ত অনেকগুলি স্বাস্থ্য উপকারিতা আবিষ্কার করেছেন। যোগ ব্যায়াম করা ব্যক্তি ক্যালোরি পোড়ান এবং পেশী শক্তিশালী করার চেয়ে আরও বেশি কিছু করে। এটি একটি ব্যায়াম যা শরীর এবং মন উভয়ের সাথেই জড়িত।
যোগ ব্যায়াম করলে নিম্নলিখিত স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো আপনার জন্য অবধারিত:
অঙ্গ-ভঙ্গি উন্নতি করে
একটি ডেস্কে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে আপনার মেরুদণ্ডের উপর শুধু চাপই পড়ে না বরং দিনের শেষে ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন। কিছু যোগাসন অভ্যাস অনুশীলন আপনাকে আপনার ভঙ্গিমা উন্নত করতে এবং আপনার ঘাড়ে এবং পিঠে ব্যথা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে।
নমনীয়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা
আপনি শেষবার কখন ইচ্ছে করেছিলেন যে আপনি সহজেই আপনার পায়ের আঙ্গুলগুলি স্পর্শ করতে পারবেন যা সামনে বাঁকানো? ঠিক আছে, যোগব্যায়াম অনুশীলন আপনাকে তাতে সহায়তা করতে পারে। যোগ ব্যায়াম আপনাকে কেবল নমনীয়তা বাড়াতে সহায়তা করে না বরং আপনাকে জটিল আসন সম্পাদন করতেও সহায্য করে।

 


যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা কি জানলে অবাক হবেন
January 4, 2020 eHealth BD
যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা
যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা ‍শুনলে চমকে যাবেন। যোগব্যায়াম একটি আধ্যাত্মিক, মানসিক এবং শারীরিক অনুশীলন যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। সময়ের সাথে সাথে, লোকেরা যোগের সাথে যুক্ত অনেকগুলি স্বাস্থ্য উপকারিতা আবিষ্কার করেছেন। যোগ ব্যায়াম করা ব্যক্তি ক্যালোরি পোড়ান এবং পেশী শক্তিশালী করার চেয়ে আরও বেশি কিছু করে। এটি একটি ব্যায়াম যা শরীর এবং মন উভয়ের সাথেই জড়িত।
যোগ ব্যায়াম করলে নিম্নলিখিত স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো আপনার জন্য অবধারিত:
অঙ্গ-ভঙ্গি উন্নতি করে
একটি ডেস্কে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে আপনার মেরুদণ্ডের উপর শুধু চাপই পড়ে না বরং দিনের শেষে ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন। কিছু যোগাসন অভ্যাস অনুশীলন আপনাকে আপনার ভঙ্গিমা উন্নত করতে এবং আপনার ঘাড়ে এবং পিঠে ব্যথা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে।
নমনীয়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা
আপনি শেষবার কখন ইচ্ছে করেছিলেন যে আপনি সহজেই আপনার পায়ের আঙ্গুলগুলি স্পর্শ করতে পারবেন যা সামনে বাঁকানো? ঠিক আছে, যোগব্যায়াম অনুশীলন আপনাকে তাতে সহায়তা করতে পারে। যোগ ব্যায়াম আপনাকে কেবল নমনীয়তা বাড়াতে সহায়তা করে না বরং আপনাকে জটিল আসন সম্পাদন করতেও সহায্য করে।

পেশী শক্তি বৃদ্ধি করে
পেশী শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে যথেষ্ট যোগব্যায়ামের উপকারিতা পাবেন। যোগব্যায়াম শরীরের দুর্বল পেশী শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। এটি টোনিংয়ে সহায়তা করে যা পেশীগুলির ঘন ঘন স্ট্রেইন প্রতিরোধ করে।
আরও পড়ুনঃ এই ১৯ টি শারীরিক ব্যায়ামের উপকারিতা অবশ্যই জেনে রাখুন
বিপাক বাড়ানোর ক্ষেত্রে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা
যোগব্যায়াম এটি ফিট রাখার পাশাপাশি আপনার দেহের সজীবতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। এটি আপনাকে স্বাস্থ্যকর খাওয়ার দিকে উদ্বুদ্ধ করে এবং শরীরের বিপাকীয় সিস্টেমকে উন্নত করে।
রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস করতে সহায়তা করে
যোগ ব্যায়াম কেবল রক্তে শর্করাকে হ্রাস করতে সহায়তা করে না বরং খারাপ কোলেস্টেরলও হ্রাস করে এবং ভাল কোলেস্টেরল বাড়ায়। এটি ওজন হ্রাসে সাহায্য করে এবং ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে।
আপনার রক্ত ​​প্রবাহ বৃদ্ধি করে
আপনার রক্ত ​​প্রবাহ বৃদ্ধিতে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা যথেষ্ট। আরও সুনির্দিষ্টভাবে, আপনি যোগ ব্যায়ামের সময় হালকা অনুশীলনগুলি আপনার সঞ্চালন, বিশেষত আপনার হাত ও পায়ে সহায়তা করতে পারে। যোগব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার কোষগুলিতে আরও অক্সিজেন পায় যা ফলস্বরূপ আরও ভাল কাজ করে। যোগব্যায়ামে মোচড়ানোর ভঙ্গিতে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি থেকে শ্বেত রক্ত ​​বেরিয়ে আসে এবং মোচড় বের হওয়ার সাথে সাথে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ​​প্রবাহিত হতে দেয়। উল্টানো ভঙ্গি যেমন হেডস্ট্যান্ড, হ্যান্ডস্ট্যান্ড এবং শোল্ডারস্ট্যান্ড, পা থেকে শিরা রক্তকে হৃৎপিণ্ডে প্রবাহিত করতে সাহায্য করে। যেখানে এটি ফুসফুসে সঞ্চারিত করে তাজা অক্সিজেনেটেড হতে পারে। হার্ট বা কিডনির সমস্যা থেকে আপনার পায়ে ফোলাভাব থাকলে এটি সাহায্য করতে পারে। যোগব্যায়াম হিমোগ্লোবিন এবং লাল রক্ত ​​কোষের স্তরকেও বাড়ায় যা টিস্যুগুলিতে অক্সিজেন বহন করে। এটি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হ্রাস করতে পারে যেহেতু প্রায়শই রক্তের জমাট বাঁধা এই ঘাতকদের কারণ।
রোগব্যাধি উপশম করে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাতে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা আছে। এটি কেবল ঋতু পরিবর্তনের সময় যে বিভিন্ন ভাইরাস আক্রমণ করে তা ধ্বংস করতে সহায়তা করে না বরং রোগ প্রতিরোধের জন্য আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।
আত্মমর্যাদা বাড়াতে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা
যোগব্যায়াম অনুশীলন করলে আপনাকে নিজের থেকে আলাদা দিক আবিষ্কার করতে সহায়তা করবে। এটি আপনাকে নিজের সম্পর্কে ভাল ধারণা দিবে এবং আপনার জীবনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিতে সহায়তা করবে।
আরও পড়ুনঃ ব্যায়াম ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে পেটের মেদ কমানোর সহজ কৌশল
ফুসফুসের কার্যাবলী বৃদ্ধি করে
ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য প্রচুর শ্বাস প্রশ্বাসের অনুশীলন দরকার হয়। দীর্ঘসময় এই ধরনের অনুশীলন করা শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিরাময় করতে পারে। এটি আপনার ফুসফুসের ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।
আপনাকে আরও ভাল ঘুমাতে সহায়তা করে
ভাল ঘুমের জন্য যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা যথেষ্ট। যোগ ব্যায়াম চাপমুক্ত রাখতে সহায়তা করে এবং একটি রুটিন তৈরি করে যা ফলস্বরূপ নিয়মিত ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে। একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় শরীর আরও গভীর এবং আরও বেশি শান্ত ঘুম পায়।
পিঠে ব্যথা রোধ করতে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা
নমনীয়তা এবং শক্তি বৃদ্ধি কিছু প্রকারের পিঠে ব্যথার কারণ রোধ করতে সহায়তা করে। অনেক লোকের যাদের পিঠে ব্যাথা রয়েছে তারা কম্পিউটারে বসে বা গাড়ি চালাতে প্রচুর সময় ব্যয় করেন, যা সারা শরীর জুড়ে অবসন্নতা এবং মেরুদণ্ডের সংকোচনের কারণ হয়। যোগব্যায়াম এই অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে পিঠে ব্যাথা রোধ করতে পারে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হ্রাস করে
এটি সর্বজনবিদিত যে নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং চাপ, উদ্বেগ এবং হতাশার অনুভূতি হ্রাস করতে সহায়তা করে। যোগব্যায়ামকে স্ব-প্রশংসনীয় কৌশল হিসাবে কাজ করার জন্য দেখানো হয়েছে এবং হার্টবিট কমিয়ে, রক্তচাপ কমিয়ে এবং শ্বাসকষ্টকে স্বাভাবিক করে। একাধিক গবেষণায় এও প্রমাণিত হয়েছে যে যোগব্যায়াম করটিসোলের প্রাথমিক স্তরের হরমোন নিঃসরণ হ্রাস করতে পারে।
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোয় যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা
যোগব্যায়াম করা আপনার মন-দেহের সংযোগকে উন্নত করে। আপনার নিজের দেহের সম্পর্কে আরও ভাল সচেতনতা বৃদ্ধি করে। যোগব্যায়ামের সময়, আপনি আপনার সারিবদ্ধতা উন্নত করতে ছোট, সূক্ষ্ম আন্দোলন করতে শিখুন। আপনি আপনার শারীরিক সত্তার সাথে আরও ভালভাবে যোগাযোগ রাখবেন। আপনি নিজের দেহকে যেমন বিচার ছাড়াই মেনে নিতে শিখেন। সময়ের সাথে সাথে এটি আপনার নিজের দেহে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করায় এবং আপনার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তোলে।
হৃদপিন্ডের স্বাস্থ্য উন্নত করে
যোগব্যায়াম কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস এবং সংবহন উন্নত করতে সহায়তা করে। এটি রক্তচাপ হ্রাস করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলি হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ওজন কমাতে নারিকেল তেলের সেরা ৫ টি ব্যবহার জেনে রাখুন
আপনার হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখে
এটি ভালভাবে জানা গেছে যে ভারোত্তোলন ব্যায়াম হাড়কে শক্তিশালী করে এবং হাড় ক্ষয় রোগকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। যোগব্যায়ামে অনেক ভঙ্গির জন্য আপনার নিজের ওজন তোলা দরকার হয়। এবং কিছু, ডাউনওয়ার্ড এবং আপওয়ার্ড-ফেসিং হাতের হাড়গুলিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে যা অস্টিওপরোটিক ফ্র্যাকচারের জন্য বিশেষত দায়ী। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসে পরিচালিত একটি গবেষণায় জানা যায়, যোগব্যায়াম অনুশীলন মেরুদণ্ডে হাড়ের ঘনত্ব বাড়িয়েছে।
রক্তে সুগার কমায়
রক্তে সুগার কমানোয় যোগ ব্যায়ামের উপকারিত অনস্বীকার্য। যোগ ব্যায়াম ব্লাড সুগার এবং এলডিএল (“খারাপ”) কোলেস্টেরল কমায় এবং এইচডিএলকে (“ভাল”) কোলেস্টেরল বাড়ায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা যোগ ব্যায়াম করে তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কম পাওয়া যায়।আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে আনুন এবং ডায়াবেটিক জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস করুন যেমন হার্ট অ্যাটাক, কিডনির ব্যর্থতা এবং অন্ধত্ব।
আইবিএস এবং অন্যান্য হজমে সমস্যা প্রতিরোধ করে
আলসার, খিটখিটে স্বভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য এই সমস্ত স্ট্রেসের দ্বারা আরও বাড়তে পারে। সুতরাং আপনি যদি চাপ কমান তবে আপনার কম ক্ষতি হবে। যোগব্যায়াম, যে কোনও শারীরিক অনুশীলনের মতো কোষ্ঠকাঠিন্য কমিয়ে দিতে পারে – এবং তাত্ত্বিকভাবে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। ড্রাগ মুক্ত রাখতে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা
আপনাকে ড্রাগ মুক্ত রাখতে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা আছে। হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ -২ ডায়াবেটিস (যাকে আগে অ্যাডাল্ট-অ্যাসেট ডায়াবেটিস বলা হত) এবং অবসেসিভ-বাধ্যতামূলক ব্যাধিজনিত ব্যক্তিদের অধ্যয়ন প্রমাণিত করেছে যে যোগব্যায়াম তাদের ওষুধের মাত্রা কমাতে এবং কখনও কখনও সম্পূর্ণরূপে তা বন্ধ করতে সহায়তা করে। কম ওষুধ খাওয়ার সুবিধা? আপনি কম অর্থ ব্যয় করবেন এবং আপনার পক্ষে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাগের মিথস্ক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি কম।

https://ehealthbd.org/

শরীর-মন সুস্থ রাখে যোগ ব্যায়াম

শরীর ও মনকে সচল রাখার জন্য খাদ্য ও পানীয় গ্রহণে বাছবিচার ছাড়াও দরকার উপযুক্ত ব্যায়াম। ছোটদের বেলায় ব্যায়ামের গুরুত্ব আরও বেশি এ জন্য যে, এর মাধ্যমে তাদের শরীর গঠন ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। ব্যায়ামের অনেক পদ্ধতি আছে। হাটাঁ, দৌঁড়, ঝাঁপ ও এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রকম খেলা এবং সাঁতার হচ্ছে এক ধরনের ব্যায়াম।

আবার সাইকেল কিংবা নানা যন্ত্রপাতির সাহায্যে করা হয় আরেক ধরনের ব্যায়াম আরও এক রকম ব্যায়াম আছে যার জন্য দৌড়াদৌড়িও করতে হয় না, যন্ত্রপাতিও লাগে না, অথচ যা খুবই উপকারী। এর নাম যোগ ব্যায়াম। শরীরের বিভিন্ন অংশে চাপ সৃষ্টি ও তা শিথিল করে এ ব্যায়াম করতে হয়। এর নিয়ম-কানুন নিয়ে অনেক বই আছে, কেউ কেউ এ ব্যায়াম শিখিয়েও থাকেন। এর সঙ্গে অন্যান্য ব্যায়াম চালিয়ে গেলে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। যেমন, হাঁটা। প্রতিদিন কমপক্ষে আধ ঘন্টা জোরে জোরে হাঁটলে শরীর নমনীয় থাকে ও মগজে প্রচুর অক্সিজেন ঢোকে বলে উদ্বেগ বা টেনশন কমে।

যোগ ব্যায়ামের বিভিন্ন দেহভঙ্গিমাকে বলা হয় আসন। এখানে ছয়টি অতি প্রয়োজনীয় আসনের বর্ণনা দেয়া হল যেগুলো সব বয়সের মানুষেরই করা উচিত। তবে অল্প বয়সে শুরু করা সবচেয়ে ভাল ও সহজ। যোগসন সাধারণ খালি পেটে করতে হয়।

প্রথমটি হচ্ছে শবাসন। শব বা লাশের মতো নির্জীব ভঙ্গিতে শুয়ে থাকার জন্য এ নামকরণ। এ আসনে বালিশ ছাড়া চিৎ কিংবা উপুড় হয়ে হাত পা ছাড়িয়ে মনকে চিন্তামুক্ত করে শুয়ে থাকতে হয়। এটি যে কোনো সময়ে করা যায় এবং দৈনিক আধ ঘন্টা করলে মেরুদণ্ড ভাল থাকে। মেরুদণ্ড ও পাঁজরের হাড়ের মজ্জা থাকে বেশির ভাগ রক্ত তৈরী হয়। তা তাছা এ আসনটি করলে অনেক পরিশ্রম ও মানসিক চাপ সহ্য করা যায়, পড়া মনে থাকে এবং শরীরের যে কোনো ব্যথা ও লুকিয়ে থাকা সমস্যা দূর হয়। সকালে লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে না উঠে কিছুক্ষণ এটি করলে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। তবে বিছানা যেন এত নরম না হয় যে চিৎ হয়ে শুলে মেরুদণ্ড বেঁকে যায়। আরেকটি কথা, অন্য সব আসনের পরই কিছুক্ষণ শবাসনে বিশ্রাম নিতে হয়।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় আসন দু’টি হচ্ছে পবনমুক্তাসন ও ভুজঙ্গাসন। এ দুটোও নাস্তার আগে কিংবা সন্ধ্যায় করা যায়। খাবার হজম হওয়ার সময়ে পেটে যে বায়ু জমে তা যাবতীয় রোগের চার ভাগের তিন ভাগের জন্য দায়ী। এ আসন দু’টি করলে পেট বায়ুমুক্ত হয় ও হজমশক্তি বাড়ে। তা ছাড়া পবনমুক্তাসন বহুমূত্র ও হাঁপানী রোগে উপকারী। ভুজঙ্গাসন সব রকম পিঠ ও কোমর ব্যাথা, উচ্চ রক্তচাপ এবং মেয়েলী রোগের উপশম ঘটায়।

চতুর্থ আসনটি পদ্মাসন। যোগশাস্ত্রমতে এ আসনটি করলে সর্বরোগ দূর হয়। বিশেষত হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের শক্তি বাড়ে, মনের শক্তিও বাড়ে এবং দেহে বাত আক্রমণ করতে পারে না।

পঞ্চম আসনটি বজ্রাসন যা খাওয়ার পরপরই করা যায়। এটি হজমে ও ঘুমে সহায়তা করে এবং মেরুদণ্ড ভাল রাখে। ষষ্ঠ আসনটি সিংহাসন। এটি নিশ্বাসের দুর্গন্ধ, জিভের ময়লা, কথার জড়তা, গলার স্বর বসে যাওয়া ও একটুতেই ঠাণ্ডা লাগায় খুব উপকারী এবং গানের গলা মিষ্টি করতে সাহায্য করে। এরপরও শরীরের বিভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী নানারকম যোগাসন বা অন্যান্য ব্যায়াম করা যেতে পারে। শবাসন ছাড়া ওপরের বাকী পাঁচটি আসনের বর্ণনা সংক্ষেপে নিচে দেয়া হল।

পবনমুক্তাসন: চিৎ হয়ে শুয়ে প্রথমে ডান পা হাঁটু থেকে ভাঁজ করে পেট ও বুকের ওপর রেখে দ’হাত দিয়ে চেপে ধর। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে মনে মনে তিরিশ পর্যন্ত গোন। তারপর ডান পা নামিয়ে বাঁ পা এবং বাঁ পা নামিয়ে শেষে দ’পা চেপে ধরে সংখ্যা গোনা হয়ে গেলে এটাকে বলা হবে একবার। শবাসনে সমান সময় বিশ্রাম নিয়ে পরপর তিনবার এটা করা উচিত।

ভুজঙ্গাসন: পা দু’টি সোজা রেখে সটান উপুড় হয়ে শুয়ে পড়। দ’হাতের তালু উপুড় করে পাঁজরের কাছে দু’পাশে মেঝেতে রাখ। এবার পা থেকে কোমর পর্যন্ত মেঝেতে রেখে হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে মাথা যতদূর সম্ভব ওপরে তোল। এখন মাথা সাধ্যমতো পিছন দিকে বাঁকিয়ে ওপরের দিকে তাকাও। ২৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এ অবস্থায় থাক। তারপর আস্তে আস্তে মাথা ও বুক নামিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড় এবং শবাসনে বিশ্রাম নাও। আসনটি দু’বার করলে চলে।

পদ্মাসন: শিরদাঁড়া সোজা করে বসে বাঁ পা হাঁটু থেকে মুড়ে ডান ঊরুর ওপর রাখ। দু’হাঁটুর ওপর রাখ। যতক্ষণ সহজভাবে পারো ঐ অবস্থায় থাক। শ্বাস- প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। তারপর পা বদলে আবারও বস। অস্বস্তি লাগলে শবাসনে বিশ্রাম নাও। এভাবে চারবার কর।

বজ্রাসন: হাঁটু ভাঁজ করে পা দু’টি পিছন দিকে মুড়ে নামাজে বসার মতো ভঙ্গিতে শিরদাঁড় সোজা করে বস। হাতের তালু উপুড় করে দু’হাঁটুর ওপর রাখ। পাছা গোড়ালির ওপর থাকবে। প্রথম ক’দিন একটু অসুবিধা হতে পারে। তাই যতক্ষণ সহজভাবে পারো ঐ অবস্থায় বস। একবারে বেশিক্ষণ না থাকতে পারলে শ্বাস স্বাভাবিক রেখে আসনটি তিনবার কর এবং শবাসনে বিশ্রাম নাও।

সিংহাসন: বজ্রাসনে বসে চিবুক বা থুঁতনি নামিয়ে বুকে ঠেকাও্। তারপর বড় হাঁ করে যতখানি পারো জিভ বার কর। এবার নাক দিয়ে বুক ভরে শ্বাস টেনে মুখ দিয়ে যত জোরে সম্ভব শব্দ করে শ্বাস ছাড়। পরপর ৬ বার এরকম করে শবাসনে বিশ্রাম নাও। ধীরে ধীরে সংখ্যাদি বাড়িয়ে ১২ বার করতে পার।

শরীরের সাথে মনের যোগাযোগ রক্ষা করে স্নায়ু। সমস্ত স্নায়ু মিলে তৈরী হয়েছে স্নায়ুতন্ত্র যার একটা বড় অংশ শেষ হয়েছে পায়ের তলায়। সেজন্য পায়ের তলা কর্কশ কোনো কিছু, যেমন ধুন্দুলের ছাল বা প্লাস্টিকের ব্রাশ, দিয়ে ঘুরিয়ে অনেক্ষণ ঘষলে শরীর সতেজ থাকে এবং অসুস্থ শরীর ধীরে ধীরে সেরে ওঠে। কাজেই রোজ যখনই সম্ভব একেক পায়ের তলা অন্তত ১০ মিনিট করে ঘষে আঙ্গুলগুলো ওপর-নিচ করে টানবে।

মুখ ধোয়ার সময়ে চোখে অনেকবার পানির ঝাপটা দাও। নাক দিয়ে পানি যতটা সম্ভব টেনে ছেড়ে দিলে সহজে সর্দি-কাশি কিংবা মাথাব্যথা হবে না। রাতে শোয়ার আগে অবশ্যই দাঁত মাজবে, কারণ মুখের অপরিচ্ছন্নতা থেকে অনেক রোগ হয়। তা ছাড়া যখনই কিছু খাবে বা পানি ছাড়া অন্য কিছু পান করবে তার পরই পানি দিয়ে ভাল করে কুলি করলে দাঁত ভাল থাকবে। আর জানো তো, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝা বুদ্ধিমানের কাজ!

**লেখক: স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যান সংস্থা হীল’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বাংলাদেশ বিমান এর চীপ পার্সার।

https://bit.ly/2GDrCdm

যোগাসন করলে এই নিয়মগুলো মানছেন তো?

ইয়োগা কথার সাধারণ অর্থ ইউনিয়ন বা মিলন।